শিল্পকলার নানা দিক সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর।

এখানে শিল্পকলার নানা দিক সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া আছে। এই গল্পে শিল্প কলার সকল দিক কে প্রকাশ করেছে। অনেক পরীক্ষায় এই গল্প থেকে প্রশ্ন করা হয়। তাই আপনারা নিচের দেওয়া সৃজনশীল গুলো পড়ে নিবেন।

শিল্পকলার নানা দিক সৃজনশীল প্রশ্ন

মেহেরুন্নেসা এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। নবীনবরণ শেষে তিনি বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে এলেন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে। সেখানে দেখেনÑ এক হাতে বন্দুক ধরে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার এক ভাস্কর্য। নামÑ সংশপ্তক। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সম্মুখপানে এগিয়ে যায় তাকেই বলে সংশপ্তক। ’৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে এ ভাস্কর্যটি বানানো হয়েছে। মনটা ভরে গেল মেহেরুন্নেসার।

 ক. মুস্তাফা মনোয়ার কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ‘প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলেই মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।’Ñকথাটি বুঝিয়ে লিখ।
গ. ক্যাম্পাসে মেহেরুন্নেসা শিল্পকলার কোন দিকটি দেখেছেন? এর বর্ণনা দাও।
ঘ. ‘মেহেরুন্নেসার দেখা দিকটিই শিল্পকলার প্রধান দিক।’Ñমন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

ক. মুস্তাফা মনোয়ার ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

খ. শিল্পকলার নানা দিক প্রবন্ধটিতে শিল্পের প্রয়োজন ও অপ্রয়োজন দুটোই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ দুটো মিলেই সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা রকম জিনিসের প্রয়োজন হয়। সেসব জিনিসের প্রয়োজন মেটালেই আমরা খুশি হই না। আমাদের মনের চাহিদার জন্য জিনিসটি সুন্দর হিসেবেও আমরা পেতে চাই। অর্থাৎ প্রয়োজনের জিনিসটি সুন্দর হতে হবে। সামান্য কাঁথা যেটি আমরা ব্যবহার করে থাকি, তা যদি নানা রকম নকশা তুলে নকশিকাঁথায় রূপান্তর করা হয় তখন এর সৌন্দর্যের দিকেই আমরা বেশি মনোযোগী হই, প্রয়োজনের কথা মনেই থাকে না। প্রয়োজন শরীরকে তৃপ্ত করে, আর বাইরের জিনিস তৃপ্ত করে মনকে। এভাবেই প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলে মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত মেহেরুন্নেসা নবীনবরণ শেষে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আসেন। সেখানে তিনি সংশপ্তক নামের একটি ভাস্কর্য দেখেন। ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধে মুস্তাফা মনোয়ার শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা সব কিছুর মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন ছাত্রী। তিনি নবীনবরণ শেষে বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি ভাস্কর্য দেখতে পান। ভাস্কর্যটির নাম সংশপ্তক। সংশপ্তক অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সম্মুখপানে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে সংশপ্তক নির্মিত হয়। মুস্তাফা মনোয়ার শিল্পকলার নানা দিক প্রবন্ধে এ ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। শিল্পকলার এ মাধ্যমটি বহু পুরনো। ভাস্কর্যে একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে তুলে ধরা হয়। এগুলো থেকে ভাবীকালের মানুষ তাদের অতীত ঐতিহ্যের শৌর্যবীর্য ও উন্নতির সাথে মিলিয়ে দেখতে পারে।

ঘ.

মেহেরুন্নেসার দেখা দিকটিই শিল্পকলার প্রধান দিকÑ মন্তব্যটি যথার্থ। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে নির্মিত ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’ দেখেছেন মেহেরুন্নেসা।

উদ্দীপকে মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ভাস্কর্যটি দেখেন। সেটি ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে বানানো হয়েছে। নাম দেয়া হয়েছে ‘সংশপ্তক’। এর মানে হচ্ছেÑ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সম্মুখপানে এগিয়ে যায়।
ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি প্রধান দিক। ভাস্কর্য হচ্ছে নরম মাটি দিয়ে কোনো কিছুর রূপ দেয়া বা শক্ত পাথর কেটে কোনো গড়ন বানানো। বিশেষ এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত মেটাল ঢেলে গড়ন বানানো, এ ধরনের কাজকে বলে ভাস্কর্য। আমাদের দেশে পোড়ামাটির ভাস্কর্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল।

শিল্পকলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চিত্রকলা। চিত্রকলার মধ্যে মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-অনুভূতি, সৌন্দর্য যেভাবে ফুটে ওঠে; তা সত্যিই অসাধারণ। চিত্রকলায় শিল্পীর হাত, রঙ, তুলির সাথে মন যোগ হয়ে এক অভাবনীয় শিল্পকর্মের জন্ম দেয়। এটি আরো বেশি মনোযোগের বস্তু হয়ে ওঠে তিনি যখন কোনো ভাস্কর্য গড়েন। শিল্পীর অন্তর্দৃষ্টির সাথে তখন বাইরের দৃষ্টি যোগ হয়। অল্পক্ষণেই তিনি গড়ে তোলেন অবিকল প্রতিমা। উদ্দীপকে এ বিষয়টিরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। শিল্পকলার প্রধান দিকের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে উদ্দীপকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য সংশপ্তক প্রত্যক্ষ করেন মেহেরুন্নেসা।

শিল্পকলার ইতিহাস থেকে দেখা যায় গ্রিস, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে এ শিল্পটি উঁচুমানের শিল্প হিসেবে চিহ্নিত। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতির প্রেক্ষাপটে এ দেশে ভাস্কর্য শিল্পটি মুখ্য হয়ে উঠেছে। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিকৃতি, যুদ্ধযাত্রা, প্রতিবাদ চিত্র ইত্যাদি এসব ভাস্কর্যে স্থান করে নিয়েছে সম্মানের সাথে।

শেষ কথা

আশা করছি এই পোস্ট আপনাদের ভালোলেগেছে এবং এখান থেকে সুখী মানুষ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর  সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই রকম শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য পেতে আমার সাথেই থাকুন। এই ওয়েবসাইটে শিক্ষামূলক পোস্ট শেয়ার করা হয়।

আরও দেখুনঃ

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম MCQ প্রশ্ন উত্তর- পিডিএফ

তৈলচিত্রের ভূত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর। পিডিএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *